Walton Walpad 10X hands on review ( এক্সক্লুসিভ রিভিউ )

Walpad 10X এর ডিজাইন, ব্যাটারী ব্যাকআপ, গেমিং পারফরম্যান্স, বেঞ্চমার্ক স্কোর, ক্যামেরা পারফরম্যান্স প্রভৃতি নিয়ে পাঠকদের জন্য আজ থাকছে Walton Walpad 10X এর Exclusive Hands-on Review

 

IMG_20150122_143911

চলুন তাহলে এবারে একনজরে Walpad 10X এর উল্লেখযোগ্য ফিচারসমূহ দেখে নিই –

* অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪.২ কিটক্যাট
* ১০ ইঞ্চির রেটিনা ডিসপ্লে
* ১.৭ গিগাহার্টজ গতির অক্টাকোর প্রসেসর
* ২ গিগাবাইটের র‍্যাম
* মালি-৪৫০ জিপিউ
* ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা
* ২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা
* ১৬ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমোরী
* সিঙ্গেল সিম ব্যবহারের সুবিধা
* ওটিজি সাপোর্ট
* ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-আয়ন পলিমার ব্যাটারী

এবারে তাহলে বিস্তারিত রিভিউয়ের দিকে যাওয়া যাক-

IMG_20150122_140948

‪#‎আনবক্সিং‬:
Walpad 10X স্মার্টফোনটির বক্সে যা যা রয়েছে –

হ্যান্ডসেট
ব্যাটারী
চার্জার অ্যাডাপ্টার
ডাটা ক্যাবল
ইয়ারফোন
ইউজার ম্যানুয়াল
ওয়ারেন্টি কার্ড

 

‪#‎অপারেটিং_সিস্টেমঃ‬
ওয়ালপ্যাড ১০এক্স ট্যাবটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বর্তমানে বাজারে থাকা অ্যান্ড্রয়েডের আপডেটেড সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪.২ কিটক্যাট ব্যবহার করা হয়েছে।

 

‪#‎বিল্ড_কোয়ালিটি_ও_ডিজাইনঃ‬

Walpad 10X ট্যাবটি বেশ আকর্ষণীয় ও নজরকাড়া ডিজাইনের। ২৪০ মিলিমিটার উচ্চতার এই ফোনটি প্রস্থে ১৬৯.৫ মিলিমিটার । এই ট্যাবটি মাত্র ৭.৮ মিলিমিটার পুরু হওয়ায় এটি বেশ সাবলীলভাবেই হাতে নেওয়া যায়। হালকা গড়নের এই ট্যাবের ওজন মাত্র ৫১৭ গ্রাম।
এর নিচের অংশে রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটার অডিও পোর্ট ও ইউএসবি ২.০ পোর্ট । ফোনটির একপার্শ্বের অংশে রয়েছে ভলিউম কী পাওয়ার কী।
ওয়ালপ্যাড ১০এক্স এর পেছনের দিকে উপরের অংশে আছে রিয়ার ক্যামেরার লেন্স ও ফ্ল্যাশলাইট আর নিচের দিকে রয়েছে স্পীকার। এছাড়া সম্মুখভাগে ফ্রন্ট ক্যামেরা, সেন্সর, স্পীকার প্রভৃতি তো রয়েছেই। এই ট্যাবে হোম/মেনু, অপশন ও ব্যাক – এই তিনটি বাটন রয়েছে। এছাড়া ট্যাবটির পাশের অংশে রয়েছে মাইক্রো-এসডি কার্ড স্লট ও সিম স্লট।

Screenshot_2014-03-20-20-56-44

‪#‎ডিসপ্লেঃ‬
১০ ইঞ্চি রেটিনা ডিসপ্লেবিশিষ্ট এই ট্যাবের ডিসপ্লের রেজ্যুলেশন হলো ২০৪৮x১৫৩৬ পিক্সেলের। এর ডিসপ্লের নিরাপত্তার জন্য এতে কর্নিংয়ের গরিলা গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে।
এতে রেটিনা ডিসপ্লে ব্যবহৃত হওয়ায় ব্যবহারকারী পাবেন ছবির প্রকৃত অবস্থা উপভোগের চমৎকার এক অভিজ্ঞতা।

‪#‎সিপিউঃ‬
সিপিউ হিসেবে এতে রয়েছে ১.৭ গিগাহার্টজ গতির অক্টাকোর প্রসেসর । ওয়ালটনের তৃতীয় অক্টাকোর প্রসেসরসমৃদ্ধ স্মার্টফোন। দ্রুতগতির প্রসেসর থাকায় এই ট্যাবে মাল্টিটাস্কিং, এইচডি গেমিং প্রভৃতি বেশ স্মুথলি করা যায়।

‪#‎চিপসেটঃ‬
Walpad 10X এ মিডিয়াটেকের অক্টাকোর চিপসেট MT8392 ব্যবহৃত হয়েছে ।

‪#‎জিপিউঃ‬
ওয়ালটনের এই ট্যাবে মালি-৪৫০ জিপিউ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে এই ফোনের গ্রাফিক্স কোয়ালিটি কিংবা গেমিং পারফরম্যান্স অন্যান্য সাধারণমানের জিপিউসমৃদ্ধ স্মার্টফোনের তুলনায় বেশ সন্তোষজনক।

‪#‎মেমোরীঃ‬
Walpad 10X ট্যাবটিতে রয়েছে ১৬ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমোরী, যার মধ্যে প্রায় ১২ গিগাবাইট ব্যবহারযোগ্য। তবে ব্যবহারকারী চাইলে এতে ৩২ গিগাবাইট পর্যন্ত এক্সটারনাল মেমোরী কার্ড ব্যবহার করে এর মেমোরী বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

‪#‎Ram‬:
এই ট্যাবে ২ গিগাবাইটের র‍্যাম দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১.৮ গিগাবাইট ব্যবহারযোগ্য। র‍্যাম অধিক হওয়ার কারণে এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাপস ইন্সটল করলেও র‍্যামের প্রায় অর্ধেক ফাঁকাই থাকে। এতে প্রয়োজনীয় নানা অ্যাপ্লিকেশন রানিং থাকার পরেও ১.১ গিগাবাইট র‍্যাম ফাঁকা ছিলো।

‪#‎ক্যামেরাঃ‬
Walpad 10X এ রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা, ফলে যারা ভালো রিয়ার ক্যামেরা সংবলিত ট্যাব খোঁজেন, তাদের নিকট এটি হতে পারে বেশ পছন্দের। নয়েজ ফ্রি ছবি তোলা নিশ্চিত করতে ওয়ালটন তাদের এই ট্যাবে CMOS সেন্সর ব্যবহার করেছে। তবে এর ক্যামেরায় অটোফোকাস সুবিধা থাকলেও ফ্ল্যাশ নেই।
এসবের পাশাপাশি সেলফি তোলা কিংবা ভিডিও কলিংয়ের জন্য আছে ২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা।

‪#‎মাল্টিমিডিয়াঃ‬
Walpad 10X এ রয়েছে ৩.৫ মিলিমিটারের অডিও জ্যাক। এর সাথে যে হেডফোনটি দেওয়া হয় তার সাউন্ড কোয়ালিটি মন্দ নয়, এর অডিও সাউন্ড কোয়ালিটিও বেশ সুন্দর। আর এই ফোনে রেটিনা ডিসপ্লে ব্যবহৃত হওয়ায় দারুণভাবে ভিডিও উপভোগ করা যায়। এই ফোনে ১০৮০ পি ফুল এইচডি ভিডিও কোন ধরণের ল্যাগ ছাড়াই চালানো যায়।

‪#‎গেমিং_পারফরম্যান্সঃ‬
তরুণ প্রজন্মের ট্যাব কেনার পেছনে গেমিংয়ের উদ্দেশ্যটাই মূখ্য ভূমিকা পালন করে। আর সেদিকে খেয়াল রেখেই হয়তো ওয়ালটন তাদের এই ট্যাবটি বাজারে এনেছে। অক্টাকোর প্রসেসরসমৃদ্ধ এই ফোনের গেমিং পারফরম্যান্স বেশ দারুণ। Walpad 10X ট্যাবটিতে ২ গিগাবাইটের র‍্যাম থাকায় এতে বিভিন্ন ধরণের এইচডি গেম বেশ স্মুথলি খেলা যায়। এই ফোনে ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান, অ্যাসফাল্ট ৮, ডিড ট্রিগার ২, মডার্ন কমব্যাট ৪, টেম্পল রান ওজেড প্রভৃতি জনপ্রিয় গেম কোন ধরণের ল্যাগিং ছাড়াই খেলা গেছে।

‪#‎কানেক্টিভিটিঃ‬
এই ফোনে ব্লুটুথ ৪.০, ওয়াইফাই, ওয়্যারলেস হটস্পট প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। এছাড়া জিপিএস নেভিগেশন সুবিধাতো থাকছেই।

‪#‎সিমঃ‬
ওয়ালটনের এই ট্যাবে রয়েছে ১টি সিম ব্যবহারের সুবিধা।

‪#‎ব্যাটারীঃ‬
১০ ইঞ্চি ডিসপ্লের Walpad 10X এ ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারী ব্যবহার করা হয়েছে। এর ব্যাটারী দারুণ। একবার ফুল চার্জ দিলে টানা ৭ ঘণ্টারও অধিক সময় ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। এছাড়া একবার ফুল চার্জে টানা ৮-৯ ঘন্টা এইচডি ভিডিও দেখা যায় কিংবা গেম খেলা যায়।

‪#‎ওটিজিঃ‬
ওয়ালটনের নতুন ট্যাব Walpad 10X এ OTG (USB On The Go) সুবিধা রয়েছে। ফলে ব্যবহারকারী এতে মাউস, কীবোর্ড, পেনড্রাইভ, এক্সটারনাল হার্ডডিস্কসহ বিভিন্ন ধরণের ইউএসবি ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারবেন।

 

21

‪#‎বেঞ্চমার্কঃ‬
কোন ডিভাইসের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য সাধারণত বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাই করা হয়ে থাকে। Walpad 10X এর বেঞ্চমার্ক স্কোর যাচাইয়ের জন্য বেঞ্চমার্ক যাচাইয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ AnTuTu বেছে নেওয়া হয়েছিলো। AnTuTu তে এর স্কোর এসেছে ৩০৫১৯ ।
AnTuTu স্কোরের দিক থেকে Samsung Galaxy S4, HTC One, Samsung Galaxy Note 2, Xiaomi Mi 2S প্রভৃতির থেকে Walpad 10X এগিয়ে রয়েছে।

‪#‎মূল্যঃ‬
উচ্চ কনফিগারেশনের Walpad 10X ট্যাবটির মূল্য ২২,৯৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ। আপাতদৃষ্টিতে এর মূল্যকে খানিকটা বেশি মনে হলেও স্পেসিফিকেশনের তুলনায় এই মূল্যকে এই মূল্যকে সহনশীলই বলতে হবে।

Walpad 10X এর ভালো লাগার দিকসমূহঃ

রেটিনা ডিসপ্লে
২ গিগাবাইটের র‍্যাম
অক্টাকোর প্রসেসর
ভালো ক্যামেরা পারফরম্যান্স
দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারী ব্যাকআপ

‪#‎Walpad‬ 10X এর সীমাবদ্ধতাঃ
ক্যামেরায় ফ্ল্যাশলাইট না থাকা এই ট্যাবটির একটি উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা। এছাড়া এতে মিডিয়াটেক চিপসেট ব্যবহার না করে কোয়ালকমের শক্তিশালী চিপসেট ব্যবহার করা হলে পারফরম্যান্স হয়তো আরো উন্নত হতো।

‪#‎চূড়ান্ত_সিদ্ধান্তঃ‬
যারা ট্যাবের চমৎকার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভালো ক্যামেরাও খোঁজেন, তাদের জন্য Walpad 10X হতে পারে আদর্শ পছন্দ। এছাড়া অক্টাকোর প্রসেসরের এই ট্যাবটির ব্যাটারী ব্যাকআপ তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় গেমারদের নিকটও এটি বেশ জনপ্রিয়তা পাবে বলে আশাবাদী ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ।

দেশীয় ক্রেতাদের হাতে সুলভ মূল্যে অপেক্ষাকৃত মানসম্পন্ন স্মার্টফোন ও ট্যাব তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে ওয়ালটন তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। ভবিষ্যতে উন্নত কনফিগারেশনের ট্যাব আরও সুলভমূল্যে বাজারে আনবে ওয়ালটন – এমনটাই প্রত্যাশা।

 

 

Updated: February 15, 2015 — 10:25 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright SmartZoneBD © 2013-2016, All Rights Reserved.